লগ-ইন ¦ নিবন্ধিত হোন
 ইউনিজয়   ফনেটিক   English 
নদী দখলকারীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার কি আদৌ তা পারবে?
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
------------------------
নিউজটি পড়া হয়েছে ৭৫ বার
তাঁর আন্দোলন আমাদের অনুপ্রাণিত করে
মানুষকে মানুষ করে তুলেছে সংস্কৃতি। সংস্কৃতিবান না হলে মানুষ যে পশুর চাইতেও হিংস হয়ে ওঠে তার প্রমাণ আমরা পেয়েছি মুক্তিযুদ্ধে। আবার মুক্তিযুদ্ধেই আমরা দেখেছি মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে। সেও ওই সংস্কৃতির কারণেই। জীবনে কোনদিন কিছু হতে চাইনি। এখনো চাই না। মানুষের কাজ প্রতিদিন নিজেকে আরো উন্নত করে যাওয়া। আমি সেই চেষ্টাই করেছি সারা জীবন।' বলছিলেন দেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মৌলবাদবিরোধী অসাম্প্রদায়িক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম। গতকাল তাঁর অভিনয় জীবনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাংস্কৃতিক সংগঠন 'আমরা সূর্যমুখী' আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ব্যতিক্রমী আয়োজন ভরে উঠেছিল দেশের বিশিষ্টজনদের পদচারণায়। সবার ফুলেল শুভেচ্ছা ও প্রীতি সম্ভাষণে সিক্ত হলেন এই জননন্দিত ব্যক্তিত্ব। সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে পরিয়ে দেয়া হয় উত্তরীয়। এছাড়াও দেয়া হয় সম্মাননাপত্র ও নিজ প্রতিকৃতি।

ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলামের সভা-পতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব) হারুণ-অর-রশিদ, অভিনেতা ড. ইনামুল হক, মহিলা পরিষদের সভানেত্রী আয়শা খানম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ, বিশ্বখ্যাত মূকাভিনয় শিল্পী পার্থপ্রতিম মজুমদার, হাসান ইমামের স্ত্রী নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান ও সংগঠনের সমন্বয় সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেলিম। আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী বিশ্বজিত রায় ও শারমিন সাথী ইসলাম।

ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, 'বহু শিল্পী আছেন ব্যক্তিস্বার্থে শুধু নিজের প্রতিষ্ঠা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই কাজ করেন। হয়তো অনেকে প্রতিষ্ঠাও পেয়ে থাকেন; কিন্তু তারা প্রকৃতপক্ষে প্রগতিশীল নন। হাসান ইমাম এবং লায়লা হাসানের সঙ্গে তাদের পার্থক্য সম্ভবত এখানেই।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, তাঁর মতো বড় মাপের মানুষ ও অভিনেতা সত্যিই বিরল। সত্যিকার শিল্পী হয়েও রাজনৈতিক সচেতন হওয়া যায়, হাসান ইমাম তা দেখিয়েছেন।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, 'দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম। অশুভ শক্তির ভয়ভীতি পায়ে ঠেলে তাঁর সংগ্রাম, তাঁর আন্দোলন আমাদের অনুপ্রাণিত করে।'

উল্লেখ্য, ২৫ মার্চ কালরাত্রির পর হাসান ইমাম মুজিব নগরে চলে যান এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায় সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখেন। এ সময় জহির রায়হানকে সভাপতি ও হাসান ইমামকে সাধারণ সম্পাদক করে মুজিব নগরে চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলী সমিতি গঠন করা হয়। এ সমিতির উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য চলচ্চিত্র দলিল 'লেট দেয়ার বি লাইট' প্রামাণ্য চিত্রটি নির্মিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর সাংস্কৃতিক বিপ্লব সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠায় হাসান ইমাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে বাংলাদেশে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করেন। শহীদ জননীর জীবনাবসানের পর হাসান ইমাম এ সংগঠনের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। হাসান ইমামের মৌলবাদ বিরোধী ভূমিকায় ভীত অশুভ চক্র কয়েকবার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে। যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে, পল্টনে কমিউনিস্ট পার্টির সভায় এবং ছায়ানটের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার সময় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। অথচ মৌলবাদী প্রচার মাধ্যমগুলো নৃশংস এ বোমা হামলার জন্য তাঁকেই অভিযুক্ত করে মিথ্যা প্রচারণা চালাতে থাকে। ফলে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে দেশত্যাগে বাধ্য হন হাসান ইমাম। দেশত্যাগের আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন নাট্যশিল্পী ও নাট্যকার সংসদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটিসহ বহু সংগঠনের সভাপতি-আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকা বিভাগ এর অন্যান্য খবর
Editor: Syed Rahman, Executive Editor: Jashim Uddin, Publisher: Ashraf Hassan
Mailing address: 2768 Danforth Avenue Toronto ON   M4C 1L7, Canada
Telephone: 647 467 5652  Email: editor@banglareporter.com, syedrahman1971@gmail.com